রাজধানীর ওয়ারীতে বাসার ভেতরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’ চাষের ঘটনায় আলোচিত মূল হোতা তৌসিফ হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা তৌসিফকে ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিটের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে তৌসিফের ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই সময় বাসার ভেতরে অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’ চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়।
ল্যাব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য সংগ্রহ করা কুশ এবং চাষের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ছাড়া সিসা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদও পাওয়া যায়। বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে তৈরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষেও একাধিক টবে কুশ চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালে কুশ চাষের কৌশল রপ্ত করেন। পরে দেশে ফিরে নিজের বাসায় বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করে কুশ চাষ শুরু করেন। বিদেশে অবস্থান করেও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এ কাজে তাঁর এক বান্ধবী সহযোগিতা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
একই সময়ে ওই বান্ধবীর মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসে ৩২টি ইয়াবা ট্যাবলেট যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তৌসিফের বান্ধবী ও বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় তৌসিফকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গ্রেপ্তারের পর তাঁর ডোপ টেস্ট করা হলে পরীক্ষায় মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েড—উভয় উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাঁর মাদক সংশ্লিষ্টতার অন্যান্য দিক এবং মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে।
উদ্ধার করা ইয়াবা ও গাঁজা নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তৌসিফের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় নতুন মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগের কুশ ল্যাবসংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের উৎপাদন, চাষ, সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।








