অবশেষে চট্টগ্রামের সেই ডন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বিদেশ নয় দেশ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। যে ব্যক্তি কখনো বিলাসবহুল বারে বসে বিয়ার হাতে ছবি দিতেন, কখনো পাঁচতারকা হোটেলের লবিতে বৈঠক করতেন, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার বার্তা দিতেন, শেষ পর্যন্ত সেই ডেভিড ইমনের পালানোর পথ থেমেছে যশোরের ঝিকরগাছায়। বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে তাকে আরও চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পেছনে ছিল কয়েক দিনের টানা গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এর আগে গত রোববার রাতে চট্টগ্রামের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসিফের কোমর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি। আরিফের কাছ থেকেও পাওয়া যায় আরও দুই রাউন্ড গুলি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে পরিচয় দেন এবং সেখান থেকেই খুলতে শুরু করে পুরো নেটওয়ার্কের রহস্য।
পুরো নাম মোবারক হোসেন ইমন, চট্টগ্রামের অপরাধজগতে যার নাম উচ্চারণ মানেই ছিল আতঙ্ক। অভিযোগ, চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, বাড়িতে গুলিবর্ষণ, এমনকি পরিবারকে হুমকি দিতেও পিছপা হতো না তার বাহিনী। রাজনীতিবিদ, ডেভেলপার, ইন্টারনেট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সবার কাছেই তিনি ছিলেন ভয়ের আরেক নাম।
সবশেষ বাকলিয়া এক্সপ্রেস রোডের একটি ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৩০ থেকে ৩৫ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভাঙচুরের পর প্রতিষ্ঠানের মালিককে ফোন করে ডেভিড ইমন পরিচয়ে এক ব্যক্তি এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করতেন, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেই দেশের মাটিতে ধরা পড়লেন চট্টগ্রামের আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুলিশ বলছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং সহযোগীদের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।










