পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। এমনকি সেই সময়ের জন্য সমর্থকদের উদ্দেশে একটি চিঠিও লিখে রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন পর্তুগিজ এই তারকা।

রোনালদোর সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। জানা গেছে, ফেরার পথে ফেডারেশনের সভাপতি তাকে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার অনুরোধ করেন। রোনালদোকে দলে রাখার ব্যাপারে ফেডারেশনও আগ্রহী ছিল।


citytouch 728-X-90

এর আগে হঠাৎ করে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। এ ঘটনায় কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তার দূরত্বের বিষয়টি সামনে আসে। ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রোনালদো জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার ওই বক্তব্যে অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, রোনালদো হয়তো জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। তবে পরে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি এবং অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা জানান।


বিবৃতিতে রোনালদো কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, কোচ দুবার দেওয়া কথা রাখেননি। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। পরে সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্যও আগের বৈঠকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে দাবি করেন রোনালদো।

তবে পুরো ঘটনার দায় শুধু কোচের ওপর চাপাননি রোনালদো। ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন তিনি। সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো বলেন, ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া তার উচিত হয়নি এবং এ ঘটনায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ দায়ী মনে করেন।


জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও স্বীকার করেছেন রোনালদো। তার মতে, এমন ঘটনার জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে শাস্তি দেওয়া হলেও সেটি মেনে নেবেন তিনি।

জাতীয় দল থেকে বিদায়ের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন রোনালদো। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এক বা একাধিক ম্যাচের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সুযোগ থাকবে। তবে সেই সময় এখনো আসেনি বলেই মনে করছেন তিনি।


রোনালদোর বর্তমান লক্ষ্য জাতীয় দলের হয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফিরে আসা। শারীরিকভাবে সুস্থ থেকে ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারলে এবং গোল করতে পারলে শাস্তি শেষ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে নেমে জয়ের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত তিনি।


সব মিলিয়ে, কোচের সঙ্গে মতবিরোধ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রতি রোনালদোর টান যে কমেনি, তার অবস্থান থেকে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অধ্যায় শেষ করার আগে আরও একবার দেশের জার্সিতে লড়াই করতে চান পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি।