ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর পরিকল্পনা বিভাগের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা দুই কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের নিয়োগ, যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতার সনদে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের সময় নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে ওই পৌরসভায় সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ পদ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। পৌরসভার নথিতে তাঁর চাকরির তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত তিনি পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগের সময়ই নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। এ বিষয়ে অভিযোগও জমা পড়ে বলে জানা গেছে। তবে সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে তা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং অভিযোগের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থপতি পদে নিয়োগের সময় জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ শূন্য হওয়ার পর তাঁকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ২২ বছর ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর যোগ্যতা, নিয়োগের নথি ও দায়িত্ব বণ্টনের প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর তাঁকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা, সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এবং কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগ ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নগর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত। এ বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতার সনদ, সিরাজুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়ে ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে।