স্বাধীনতার আগে ও পরের বাংলাদেশের মুদ্রাগুলো কেমন ছিল, তা দেখার সুযোগ মিলছে রাজধানী ঢাকায়। একই সঙ্গে প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্লভ ও ঐতিহাসিক মুদ্রা। আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এসব মুদ্রা দেখতে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মাইডাস সেন্টারে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।

কখনো রাষ্ট্রের নাম বদলেছে, কখনো বদলে গেছে সীমানা। সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে মুদ্রার নকশা, রূপ ও প্রচলন। অথচ এসব মুদ্রার প্রতিটিই ধারণ করে আছে ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়। স্বাধীনতার আগের ও পরের বাংলাদেশের মুদ্রা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিলুপ্ত রাষ্ট্রের দুর্লভ মুদ্রা—সবই একসঙ্গে দেখার সুযোগ মিলছে এই প্রদর্শনীতে।

শুধু বাংলাদেশ বা ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরল মুদ্রাও স্থান পেয়েছে এখানে। এসব মুদ্রা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী।

বিলুপ্ত রাষ্ট্রের মুদ্রাও রয়েছে প্রদর্শনীতে

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায় আফ্রিকার দেশ জাইরে। দেশটির অস্তিত্ব না থাকলেও দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই জাইরের মুদ্রাও স্থান পেয়েছে ঢাকার এই প্রদর্শনীতে।

৬১টি ক্যাটাগরিতে সাজানো প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৪৩ জন সৌখিন সংগ্রাহক নিয়ে এসেছেন আড়াই হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাসসমৃদ্ধ মুদ্রা। সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনীতে রয়েছে বিভিন্ন সময়ের ও বিভিন্ন দেশের ব্যতিক্রমী সব মুদ্রার সংগ্রহ।

মুদ্রা শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, ইতিহাসের অংশ

২৯ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটি (বিএনসিএস)।

সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কামরুজ্জমান কায়সার বলেন, মুদ্রা কেবল লেনদেনের মাধ্যম নয়, এটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাজার বছরের মুদ্রাব্যবস্থার বিবর্তন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

শেষ হচ্ছে শনিবার রাতে

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ষষ্ঠ বিএনসিএস মুদ্রা প্রদর্শনী চলবে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুদ্রা সংগ্রহে আগ্রহীদের জন্য এটি এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। একই ছাদের নিচে বিভিন্ন সময় ও দেশের মুদ্রা দেখার এমন সুযোগ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।