বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপ। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে তাঁরা বাইক মেরামত করেন এবং পরে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর দুজন আলাদা হয়ে যান। কী ঘটেছিল সেদিন রাতে, সে বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন দ্বীপ।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জানান, জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে মেসেজ পাঠান তাহসিফ।

দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের একটি বাইক গ্যারেজে নষ্ট অবস্থায় পড়ে ছিল। বাইক সম্পর্কে ধারণা থাকায় তাঁর পরামর্শ নিতে দ্বীপকে ডেকেছিলেন তাহসিফ। পরে গ্যারেজে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে বাইকটি চালু করেন তাঁরা। এরপর উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে বাইকের প্রয়োজনীয় মেরামত ও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করেন।

দ্বীপ জানান, কাজ শেষে তাহসিফ তাঁকে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তাঁরা রুয়াব কমপ্লেক্সের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খান। সেখান থেকে বের হয়ে হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এসে দুজন আলাদা পথে চলে যান। দ্বীপ ডান দিকে এবং তাহসিফ বাঁ দিকে চলে যান বলে জানান তিনি।

দ্বীপ আরও বলেন, বাসায় ফেরার পর তাহসিফকে ফোন করে নিজের পৌঁছানোর কথা জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন থেকেই তাহসিফের ফোন বন্ধ পান। পরদিন সকালে আবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।

তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সন্ধান ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ।