মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা এক সপ্তাহেরও কম সময়ে বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মাতৃভূমি রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হওয়ার সুযোগও দিচ্ছে তেহরান।
তিনি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সাত দিনের পরিকল্পনাটি নির্ধারিত সময়ের আগেই কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
কী আছে ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায়?
গত সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ বন্ধে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল ইরান। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়।
সে সময় আরাগচি জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতিসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।
তবে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইরানের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া অন্যতম।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কাতারের নেতৃত্বে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যেন আবার যুদ্ধ শুরু না হয়, সে লক্ষ্যেও তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও অন্যান্য আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। সেখানে চলমান পরিস্থিতি, সর্বশেষ আলোচনা, হরমুজ প্রণালি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কথা হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে চলমান এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।






