ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টি স্থলে আঘাত হানার একদিন পরও বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বাড়ি ধসে পড়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল দিয়ে বুধবার ভোরে স্থলে উঠে আসে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ঝড়টিকে তাদের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরের ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। স্থলে প্রবেশের পরপরই ঝড়টি শক্তি হারাতে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার ভোরে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয় অর্ণব। এ সময় নিম্নচাপটি ছত্তীশগড় ও দক্ষিণ ওড়িশার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে রাজ্যটিতে অন্তত ১৫ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনাসিম ও পশ্চিম গোদাবরি জেলা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করতে পেরেছিল সরকার। এতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ২০ জন নাবিকসহ মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবারও জাহাজটি একই স্থানে আটকে ছিল।

সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার আশঙ্কায় আগেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ভারতের পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়টি স্থলে উঠে দুর্বল হয়ে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।