পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম লালচরে খাবারে বিষক্রিয়ায় তিনটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও ২৭টি মহিষ। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচরে ২৮ আগস্ট বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মহিষ পালকদের অভিযোগ, সরকারি খাসজমিতে মহিষ চরানোর জন্য প্রতিটি মহিষের বিপরীতে মাসে ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এ টাকা দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে মহিষের খাবার বা ঘাসে বিষাক্ত কোনো পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, লালচরের খাসজমিতে বর্তমানে ৪৭৮টি মহিষ চরানো হয়। সে হিসাবে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে মাসে মোট ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

citytouch 728-X-90

তবে মাইনুদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জেলেদের মাছ ধরার চাই ভেঙে ফেলার জরিমানা হিসেবে স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং সালিশে আদায় করা ওই টাকা তাঁর কাছে জমা রাখা হয়েছিল। তবে মহিষ পালকেরা এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা জেলেদের কোনো মাছ ধরার চাই ভাঙেননি এবং এ বাবদ কোনো টাকাও দেননি।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, চাঁদা আদায়ের অভিযোগের সঙ্গে মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়া ও মৃত্যুর ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মহিষগুলোর অসুস্থতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।