

স্পিনারদের নীলক্ষেতে পেসাররা এখন বিচরন করছে, এক দশক আগেও যা ভাবা ছিল অসম্ভব সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে তাসকিন এবাদত হাসান মাহমুদরা।হাতুরু সিংহের আসার পর বদলেছে ড্রেসিং রুমের পরিবেশ, বদলেছে খেলার ধরন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তাসকিন বলেছেন আমরা এখন আক্রমণাক্ত ক্রিকেট খেলছি, আমাদের সব ধরনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়ার ভয় থেকে সরে এসে এখন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন সবাই। সবার ভিড়েও পেসার দের উন্নতিটা চোখে পড়ার মতো, কোন নির্দিষ্ট জনের নাম বলার সুযোগ নেই। টিকে থাকার লড়াই রেখে, এখন সময় পার্ফমেন্সের। সদ্য পারফর্মারদের ভিড়ে জাতীয় দলের বাইরে যারা, তারাই তো নিজেদেরকে হারিয়ে খুঁজছেন।এইতো সাইফুদ্দিনের কথা, বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে মিস্টার বোলিং অলরাউন্ডার ঠিক মত ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান না তবে বোলিংয়ে বড় একটা জায়গা জুড়ে ছিলেন, জাতীয় দলের ভাবনাতেও ছিলেন বড় অক্ষরে । তবে ইনজুরি আর পারফরম্যান্স তাকে বেশ কিছুটা আড়াল করেছিল। আড়াল থেকে নজরে আসতে বেছে নিয়েছেন ডিপিএল। নিজেকে প্রমাণ করতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, মাঠে পারফরমেন্স করছেন। বাংলাদেশের ফাস্টক্লাস পেস এ্যটাকে জায়গা করা এখন যেকারো জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার। সেখানে রুবেলদের মত হাজার মাইল দূরে থাকা প্রদিপের প্রচেষ্টা অনেকটাই স্বপ্ন বিলাশের মতো। ওয়ার্ল্ড কাপের আগে দেশের প্রেস ইউনিট দারুন পারফরম্যান্স করছে। একটা সময় এমন ছিল দেশের পেসার দের কাছে, ভিনদেশি পেসার দের বোলিং, অধরা কোনো এক বস্তুর মত, যা ছুয়ে দেখার ক্ষমতা কারো নেই। সেই অধরা কে ধরতে শিখিয়েছেন অ্যালেন ডোনাল্ড। শারীরিক মানসিক সব দিক থেকে পিছিয়ে থেকেও পর্বতের চূড়ায় উঠে কিভাবে আপনি নিজের নাম লেখাবেন সেটা এখন বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক পারফরমেন্সই বলে দেয়। শুধু তাই নয় পাইপলাইনের দিকে যদি আপনি তাকাতে চান রিপন মন্ডল, তাঞ্জিম সাকিব থেকে শুরু করে আশিক সবাই নিজেদেরকে প্রস্তুত করছেন ভবিষ্যতের জন্য। ক্যারিয়ারের শুরুতে বিপিএলের মতো ফ্রাঞ্চাইজি আসরে খেলেছেন। ডিপিএল, বিসিএলের পার্ফমেন্স তাদের নাম গুলোকে এগিয়ে রেখেছে। ডোনাল্ডো তাদের নজরে রেখেছেন, সুযোগ পেলে প্রশংসাও করেছেন। তবে আপনি ধরতেই পারেন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ প্রেস অ্যাটাকিং শক্তিশালী থেকে আরও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। যুগের পর যুগ যেখানে স্পিনাররা ভয় ধরিয়েছে সেখানে এখন পেসাররাও আধিপত্য দেখাচ্ছে।


