

আইরিশদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেওয়া হলো না বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে হেরে ধরাশয়ী হলো টাইগাররা। ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় শামীম হোসেন ফিফটি করে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দিলেও পল স্টার্লিংয়ের ব্যাটিং নৈপুণ্যে আয়ারল্যান্ড সহজেই ম্যাচ জিতে নেয়।টানা দুই জয়ের পর এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে পেরেছিল সাকিব আল হাসানের দল।তবে শুরুতেই মেরে খেলার এপ্রোচ অব্যহত রাখতে গিয়ে অহেতুক উইকেট বিলিয়ে এসেছে ব্যাটারা। টস জিতে ব্যাটিং এ নেমে তাড়াহুড়ো করেছেন টপ অর্ডারের সবাই। আইরিশ বোলারদের কাছে একপ্রকার উইকেট বিলিয়ে এসেছেন শান্ত, লিটন, রণি সহ সাকিব আল হাসানরা। আইরিশ বোলারদের তান্ডবে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেন নি। ব্যাটাররা যাওয়া আসার মিছিলে থাকলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করার মিশনে, আজ মাত্র ৪ ব্যাটার ডাবল ফিগারে পৌঁছাতে পেরেছে। সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংসটি এসেছে শামীম হোসেনের ব্যাট থেকে। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ মাত্র স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মাত্র ১২৪ রান। অল্প পুঁজি তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরু করে আয়ারল্যান্ড। ওপেনিং এ নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের উপর চড়াও হন আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ৪১ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের উপর ভর করেই জয়ের ভিত্তি পায় আয়ারল্যান্ড। মাত্র ৩১ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন এই ওপেনার। হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে প্রথম দশ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ করা আয়ারল্যান্ডের শেষ ৬০ বলে প্রয়োজন হয় ৪৮ রানের।এর আগে তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশকে এনে দেন ব্রেকথ্রু। ব্যক্তিগত ৭ রানে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার রস অ্যাডায়ার। শরিফুল ইসলাম একাদশে সুযোগ পেয়ে নিজের প্রথম বলেই তুলে নেন লরকান টাকারের উইকেট। তবে দুই উইকেট হারালেও অন্য প্রান্তে স্টার্লিং ঠিকই রানের ঝড় তুলেন। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে শরিফুল ইসলাম স্টার্লিংয়ের কাছে প্রথম বলেই হজম করেন ছক্কা। এরপর বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক। শেষপর্যন্ত এই ওভারে মোট ২০ রান খরচ করেন শরিফুল। শেষপর্যন্ত দলীয় ১০৯ রানে থামে স্টার্লিংয়ের ঝড়। রিশাদ হোসেনের প্রথম আন্তর্জাতিক শিকার ৭৭ রান করা স্টার্লিং। ৪১ বল খেলে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় এই ইনিংস সাজান আইরিশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত আর কোনো অঘটন না ঘটায় হ্যারি টেক্টর আর কুর্টিস ক্যাম্ফারের ব্যাটে ভর করে জয়ের বাকি পথ পাড়ি দেয় আয়ারল্যান্ড। ৬ ওভার হাতে রেখে আয়ারল্যান্ড পায় ৭ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়। টেক্টর ১৪* ও ক্যাম্ফার খেলেন ১৬* রানের ক্যামিও ইনিংস।


