

অনূর্ধ্ব-১৯ দলে বহুবার ২২ গজে একসঙ্গে দৌড়েছেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারি। দেশকে জয় এনে দিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন করেছেন। এবার জাতীয় দলের হয়ে আফগানদের বিরুদ্ধে তারা দলকে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব সামলালেন।আফগানিস্তানকে নাগালের মধ্যে আটকে রেখেও দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তরুণ হৃদয় ও শামীম ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। চাপ থেকে কামব্যাক দেখান তারা। এরপর জয়ের প্রান্তে গিয়ে হারায় তিন উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথমটিতে টস জিতে আফগানদের ব্যাটিংয়ে পাঠান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফ্রেশ উইকেটে নতুন বলে সুবিধাও তুলে নেন। তৃতীয় ওভারে প্রথম সাফল্যের পর অষ্টম ওভারে আফগানদের ৫২ রানে ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।ওই চাপ সামাল দেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। তিনি ৪০ বলে হার না মানা ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। চারটি চার ও একটি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। তার সঙ্গে জুটি দেন নাজিবুল্লাহ জাদরান ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই। নাজিব খেলেন ২৩ রানের ইনিংস। পেসার ওমরজাই ১৮ বলে চারটি ছক্কার শটে ৩৩ রান করেন। আফগানিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান তোলে।জবাব দিতে নেমে চাপে পড়ে বাংলাদেশ দলও। ৩৯ রানে তৃতীয় ও ৬৪ রানে হারায় চতুর্থ উইকেট। এরপর হৃদয় ও শামীম দুর্দান্ত জুটি গড়েন। তারা ৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে আসেন। দলের রান ১৩৭ হলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাঁ-হাতি ব্যাটার শামীম পাটোয়ারি। তিনি ২৫ বলে তিনটি চারের শটে ৩৩ রান করেন। হৃদয় ৩২ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন।শেষ ওভারে জয়ের জন্য ছয় রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নতুন ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ সময় নিতে চাইলেন না, করিম জানাতের করা প্রথম বলেই চার মেরে চাপ কমিয়ে আনলেন। কিন্তু অদৃশ্য চাপ তো তখনও তার কাঁধে, সেই চাপেই কি না পরের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে মিরাজ। এরপর চরম নাটকীয়তা, টানা দুই বলে তাসকিন আহমেদ ও নাসুম আহমেদকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে বসলেন করিম। দলকে জেতানোর গুরুদায়িত্ব তখন শরিফুল ইসলামের কাঁধে, ২ রান তুলতে হবে ২ বলে। তরুণ এই পেসার নিজের খেলা প্রথম বলেই মেরে দিলেন চার, বাংলাদেশ পেল রোমাঞ্চকর এক জয়।


