নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বাড়িতে পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শিবির নেতা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। পোস্টে তিনি লেখেন, “তোদের জান কালাকালা করি দিমু দাঁড়া”—এমন বক্তব্য নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পোস্টে আতিকুর কোম্পানীগঞ্জ থানার সদ্যবিদায়ি ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিমের তাৎক্ষণিক বদলির প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, “বদলি কি সব সমস্যার সমাধান?” একই সঙ্গে তার বাড়িতে হামলার জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দায়ী করে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তবে পোস্টে করা অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে। পুলিশ জানায়, কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নুরুল হাকিম ও পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আলমের নেতৃত্বে পরোয়ানাভুক্ত আসামি আতিকুরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে তার ঘরের দরজা ও আলমারি ভাঙার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে চরপার্বতী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
আতিকুরের অভিযোগ, পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ও আলমারি ভেঙে ফেলেছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া কয়েকটি মামলায় তিনি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে খালাস পেয়েছেন। তবে মামলার নকল সংগ্রহ করা হয়নি; সোমবার সেগুলোর নকল নিয়ে থানায় জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার সদ্যবিদায়ি ওসি নুরুল হাকিম। তিনি বলেন, ঘরের দরজা ও আলমারি ভাঙার অভিযোগ সত্য নয়; এটি সাজানো হয়েছে। তার ভাষ্য, আতিকুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তাকে ধরতেই নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল।
ফলে পুলিশি অভিযানে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশকে হুমকির বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।










