রংপুর প্রতিনিধি:

বয়স মাত্র ১৭ বছর। অথচ এই বয়সেই দীর্ঘদিনের অসুস্থতা আর চিকিৎসার অনিশ্চয়তায় বিছানায় দিন কাটছে মৌসুমি আক্তারের। শারীরিক যন্ত্রণায় কাতর এই কিশোরীর চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। দিনমজুর বাবার পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজ দর্পা গ্রামের দিনমজুর মাসঊদার রহমানের চার মেয়ের মধ্যে সবার বড় মৌসুমি। পরিবারের নিজস্ব কোনো জমি নেই। অন্যের জায়গায় বসবাস করে কোনোরকমে সংসার চালাতে হয় তাঁদের। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ইতোমধ্যে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বাবা। বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রমও থমকে আছে।

citytouch 728-X-90

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে গঙ্গাচড়া উপজেলায় পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মৌসুমির। বিয়ের প্রায় আট মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর শারীরিক দুর্ভোগ। সময়ের সঙ্গে অসুস্থতা বাড়তে থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ পরিবারের হাতে নেই।

মেয়েকে সুস্থ করতে নিজের সামর্থ্যের শেষটুকুও ব্যয় করেছেন মাসঊদার রহমান। স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব।

পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মৌসুমির স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তাঁর চিকিৎসা ও দেখভালে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেননি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাবার পরিবারকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন মৌসুমি। তাঁর নানাও দিনমজুর। নিজের সংসার চালাতেই যাঁকে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়, তাঁর পক্ষে নাতনির চিকিৎসার বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করাও সম্ভব হচ্ছে না।

পরিবারের দাবি, মৌসুমির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই অর্থের সংস্থান না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। দিনের পর দিন বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

মৌসুমির সঙ্গে কথা বললে অসুস্থ শরীর নিয়েও সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানান তিনি। তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা। পরিবারও বলছে, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে মৌসুমিকে আবার সুস্থ জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করা সম্ভব।

এ অবস্থায় মৌসুমির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ হলে ১৭ বছরের এই কিশোরীর জীবন আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সহযোগিতা ও যোগাযোগ:

মোবাইল: ০১৯২৬১৫২০৩৯ নগদ, বিকাশ ও রকেট (পার্সোনাল) মোস্তাফিজুর (মৌসুমির চাচা): ০১৭২৩৫০৮৭০৯ অর্থের অভাবে যেন মৌসুমির চিকিৎসা বন্ধ না হয়ে যায়—এমনটাই আকুতি তাঁর পরিবারের।