কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলার একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতনি ফাইজান আহম্মেদ। এ ঘটনায় তাদের আরও চার স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের সাত সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মধ্যে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান মো. কবির তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন তার ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরাও। ভ্রমণের সময় তারা কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে কবির তালুকদারের জামাতা নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েকজন জানালা ভেঙে বাইরে বের হতে সক্ষম হলেও অন্যরা ভেতরে আটকা পড়েন। পরে এ ঘটনায় কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতনি ফাইজান আহম্মেদ নিহত হন।
নিহত অপর চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তারা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায়।
নিহত কৌশিক জেরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। চাকরির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. কবির তালুকদার বলেন, “আমার আর কিছুই রইল না। আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। পাশাপাশি আমার ভায়রার পরিবারের চারজনও মারা গেছে।”
পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য শনিবার বিকেলে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে যান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।









