নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নেত্রকোণা সাংবাদিক সমাজ।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।


এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, দৈনিক দিনকাল এর প্রতিনিধি বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, দৈনিক ইত্তেফাক প্রত্রিকার জেলা প্রতিনিধি প্রবীণ সাংবাদিক বাবু শ্যামলেন্দু পাল, খবরের কাগজ এর প্রতিনিধি সঞ্জয় সরকার, নয়া দিগন্ত পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি আবুল কালাম, এনসিপি এর কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই গ্রামে নিহত সাংবাদিকের শ্বশুরবাড়ি। ঘটনার রাতে তিনি বাড়ির সামনের একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।


পরে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ নেত্রকোণা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়।


নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন।


মানববন্ধনে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়।