ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে সরকারি বিনা মূল্যের খাবার খেয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


বুধবার দেশটির জাতীয় ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর শত শত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থার কর্মকর্তা কেতুত সুমেদানার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ৫১২ জন শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে স্থানীয় এক কর্মকর্তা আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৬ বলে জানিয়েছিলেন।

citytouch 728-X-90


ঘটনার পর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবারও প্রায় ৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


জাতীয় পুষ্টি সংস্থার কর্মকর্তা কেতুত সুমেদানা বলেন, এই মুহূর্তে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ জানানো হবে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, সেটিকেই প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ওই রান্নাঘরকে ৩০ দিনের জন্য সরকারি খাবার কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।


পূর্ব জাভার উপ-গভর্নর এমিল দারদাক জানান, ওই রান্নাঘর একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করেছিল।


ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো শিশুদের অপুষ্টি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর দেশজুড়ে বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু করেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশটির কোটি কোটি শিশুকে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই কর্মসূচিটি নানা বিতর্ক ও সমস্যার মুখে পড়ে।


এর আগেও এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট পর্যন্ত কর্মসূচির খাবার খেয়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।


কর্মকর্তাদের মতে, খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটছে।


সাম্প্রতিক এই ঘটনার মধ্যেই সরকারি খাবার কর্মসূচিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে শত শত খাবার সরবরাহকারী রান্নাঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


কর্মসূচিটি নিয়ে এর আগে দুর্নীতি, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং বিপুল ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। গত জুনে দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় পুষ্টি সংস্থার তৎকালীন প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কর্মসূচির পরিধিও কিছুটা কমিয়েছে সরকার।


এদিকে, এই কর্মসূচির ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও। তাদের আশঙ্কা, কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের বাজেট ঘাটতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


গত জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরকারি বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপে খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে জনঅসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।