ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আইনি দলের প্রধান রত্না সিংকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে আরও তিন আইনজীবীর সঙ্গে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রত্না সিং।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ। বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা কয়েকজনকে আটকে রাখার ঘটনাও সামনে এসেছে।
রত্না সিংয়ের অভিযোগ, তাঁর গাড়ির চারপাশে ২৫ জনের বেশি পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। তবে তাঁকে আটকে রাখার কারণ স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। শনিবার সকালে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেখতে চাইলেও পুলিশ তা দেখায়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
রত্না সিং জানান, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে অবস্থান করতে বলছিলেন। কিন্তু তিনি গাড়ি থেকে নামতে রাজি হননি। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছিল না, আবার চলে যেতেও দিচ্ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিক নোটিশ চেয়েছি। কিন্তু তাদের কাছে কিছুই নেই। তারা বলছে, আমাকে আটক করতে চায়। আমাদের বলা হয়েছে, ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে। তবে কারা এই নির্দেশ দিয়েছে, তা আমি জানি না।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ধ্রুব রাঠি। এর আগে পুলিশ তাঁকে রাজধানীতে না যাওয়ার অনুরোধ জানায়। সেই অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে রত্না সিং ও অন্যদের আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।










