শরৎকাল শেষ হতে এখনো বাকি, শীতের আগমনেও প্রায় এক মাস সময় রয়েছে। তবে এরই মধ্যে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ, ঘাসের ওপর জমছে শিশির আর বইছে হিমেল বাতাস।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এই পরিবর্তনে শরতের সকালেই শীতের আগমনী বার্তা অনুভব করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোরের আলো ফোটার আগেই পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মধ্যরাতের পর থেকে ঘাস ও গাছের পাতায় জমছে শিশির। সকালে সূর্যের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমে আসে। হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে সাধারণত আগেভাগে শীতের প্রভাব দেখা যায় এবং শীতের স্থায়িত্বও বেশি থাকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা ও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ছে। কয়েক দিন আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পঞ্চগড়ে বৃষ্টি হয়েছিল। এর প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে যায়।
বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও রাতের তাপমাত্রায় তেমন বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভোররাতে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাতের পর অনেক বাড়িতে ফ্যান বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি এবং শুক্রবার আকাশে ঘন মেঘ থাকায় সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশা দেখা গেছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা করিম উদ্দীন জানান, ফজরের নামাজ পড়াতে ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় চারপাশে ঘন কুয়াশা দেখা যায়। তবে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় কুয়াশা কমতে শুরু করে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, এখনো শরৎকাল চলছে। শীতকাল আসতে প্রায় এক মাস বাকি। হেমন্তের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে শুরু করবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে।










