ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অধিকাংশ শাখা ডাকঘরের অবস্থা বেহাল। অনেক ডাকঘরই ঝোপঝাড় ও নির্জন এলাকায় অবস্থিত। নির্ধারিত সময়ে সেগুলো খোলা পাওয়া যায় না; বেশির ভাগ কার্যালয়ের দরজায় ঝুলতে দেখা যায় তালা। জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী স্থানে ডাকঘর নির্মাণ এবং নিয়মিত কার্যক্রমের ঘাটতির কারণে ডাকসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এসব ডাকঘরে সাধারণ চিঠিপত্রের বদলে সরকারি-বেসরকারি নিয়োগপত্র ও মামলাসংক্রান্ত চিঠিই বেশি আসে বলে জানা গেছে। প্রেমপত্র আসার ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, কোনো কোনো ডাকঘরে প্রতি মাসে ১২ থেকে ২০টি তালাকসংক্রান্ত চিঠি আসে।
সরেজমিনে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা ডাকঘরটি খুঁজে পাওয়া যায় ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি স্থানে। এর আশপাশে উচ্চবিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও ডাকঘরে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাকঘরটিতে পোস্টমাস্টারকে নিয়মিত দেখা যায় না। কার্যালয়ের দরজার সামনে আগাছা জমেছে। আশপাশের জায়গায় গবাদিপশুর বিচরণ থাকায় গোবর ও আবর্জনাও ছড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ডাকঘরটির পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়েছে।
একই ইউনিয়নের কিল্লাতাজপুর ডাকঘরটিও জনসাধারণের সুবিধার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করে পোস্টমাস্টারের দেওয়া জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ডাকসেবা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া ও ভবানীপুরের ডাকঘরগুলোর অবস্থাও একই রকম বলে জানা গেছে। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরে স্থানীয় এক জমিদারের উদ্যোগে একটি শাখা ডাকঘর চালু হয়েছিল। তবে সেটির নির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। অন্যদিকে, বোকাইনগর ইউনিয়নে স্থানান্তরিত ডাকঘরটির নাম সম্পর্কে স্থানীয় অনেকেরই ধারণা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া রামগোপালপুর, পাছারবাজার, শাহগঞ্জ ও বীরআহাম্মদপুর ডাকঘরেও গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ডাকঘরগুলো জনবসতিপূর্ণ ও সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থানে স্থাপন, নিয়মিত খোলা রাখা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা না হলে স্থানীয় মানুষের ডাকসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই গৌরীপুরের শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থান, কার্যক্রম ও জনবল ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।










