ঢাকার ধামরাইয়ে ধর্ষণের শিকার তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির পরিবারের অভিযোগ নিষ্পত্তির নামে স্থানীয় এক চৌকিদার ও এক মাতব্বরের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কালীঘাট বাজার এলাকার একটি বাড়িতে। অভিযোগ রয়েছে, থানায় মামলা করতে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বালিয়া ইউনিয়নের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুকে আট মাস আগে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সরবেশ আলীর ছেলে ও মাদ্রাসাছাত্র আলামিন হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। এরপর স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযুক্ত আলামিন বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার সালিশি বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ধামরাই থানায় অভিযোগ জানাতে যান। অভিযোগ রয়েছে, থানার চত্বরে পৌঁছানোর পর ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার বাসের আলী ও স্থানীয় মাতব্বর জিন্নাত আলী শিশুটির চাচাকে ফোন করে ডেকে নেন এবং বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন।
এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে কাউয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে পুলিশ সুন্দর কাঁঠালিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। পরে চৌকিদার ও মাতব্বর শিশুটিকে এবং অভিযুক্ত আলামিনকে নিয়ে বালিয়া ইউনিয়নের কালীঘাট বাজার এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে মসজিদের ইমাম ডেকে তাদের বিয়ে পড়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চৌকিদার বাসের আলী দাবি করেন, শিশুটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মামলা-মোকদ্দমার পরিবর্তে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাউয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, এ ঘটনায় পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলে পুলিশের করণীয় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনাটি ঘিরে শিশুর নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং স্থানীয়ভাবে গুরুতর অপরাধ মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুটির চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।










