কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমীনের হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার আগে কিশোরী কোথায় গিয়েছিল, কীভাবে অটোরিকশায় উঠেছিল এবং কারা তার আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, সড়কের পাশের একটি ধানখেতে পরিত্যক্ত অটোরিকশা দেখতে পেয়ে তিনি এগিয়ে যান। অটোরিকশা থেকে কিছুটা দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। ধানখেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন অনুসরণ করে সামনে এগোতেই কাদার মধ্যে কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানখেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, কিশোরীকে হত্যার আগে সেখানে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। তবে হত্যার আগে ধর্ষণ বা অন্য কোনো নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

citytouch 728-X-90

এদিকে তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার বাবা-মা হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। কিশোরীর বাবা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

তাজমীনের মা শোক প্রকাশের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া এক বান্ধবীকে নিয়ে সন্দেহের কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে দায় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপহরণের আগের সময়ে কিশোরীকে ঘিরে কয়েকজন যুবকের ঘোরাফেরার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফুটেজটি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করছে।

বিভিন্নজনের বক্তব্য অনুযায়ী, বান্ধবীদের সঙ্গে কক্সবাজার ঘুরে বুধবার রাতে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ নামের একটি দূরপাল্লার বাসে কুমিল্লায় ফেরে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমীন। রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামতে দেখা যায়। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজতে থাকে সে। শহরগামী অটোরিকশা না পেয়ে কিছুক্ষণ হোটেলে বসে থাকার পর আবার রাস্তায় অপেক্ষা করে।

সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, রাত সোয়া ১২টার দিকে হেঁটে কিছুটা সামনে যাওয়ার পর একটি অটোরিকশায় ওঠে তাজমীন। এরপর কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাজমীন তার বাবাকে ফোন করে জানায়, তাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার করতে বলে। সে নিজের লাই