যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিক ইয়ার গোলান। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে যায়নি।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রিশন লেজিওনে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোলান এ মন্তব্য করেন।

গোলান বলেন, খামেনির মতো একজন ব্যক্তিত্বকে হত্যা করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনি মৃত্যুর যোগ্য ছিলেন কি না, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ সময় তিনি খামেনির বয়স ৮৬ বছর ছিল বলেও উল্লেখ করেন।

citytouch 728-X-90

ইসরায়েলের এই বিরোধী নেতা দাবি করেন, খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসায় ইরানের নেতৃত্ব আরও উগ্র ও সহিংস ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন গোলান। তাঁর মতে, ইরানের সরকারকে উৎখাত করার যে লক্ষ্য নেতানিয়াহু নির্ধারণ করেছিলেন, তা বাস্তবসম্মত ছিল না এবং সেই লক্ষ্য অর্জনেও তিনি সফল হননি।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।