প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর মতে, পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্মম রসিকতা করা হয়েছে।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁদের জন্য ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল।
পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। একটি পোস্টে দাবি করা হয়, অধিদপ্তরের একটি চক্রের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ওই চক্রে নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার আত্মীয়ও জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি প্রার্থীদের সঙ্গে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি এবং রাতভর বিভিন্ন স্থানে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের দাবিও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগের রাত থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করার পর, পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পরীক্ষার্থী টিউশনির টাকা জমিয়ে কিংবা ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন চাকরির আশায়। তাঁদের দীর্ঘ প্রস্তুতি, সময় ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির দায় কে নেবে, সে প্রশ্নও তুলেছেন হাসনাত। তাঁর মতে, পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারি অর্থ ব্যয় হবে, যা মূলত জনগণের অর্থ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূলোৎপাটন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।










