ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতাদের আটকের খবরের মধ্যেও পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার দাবি করেছে সিজেপি। তবে নেতাদের আটকের পর আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি ছিল সিজেপির। এর আগে দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরাককেও আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হলে বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে অবস্থান নেন।

citytouch 728-X-90

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আটক হওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। এ ছাড়া ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও দিল্লিতে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আগেই বিকল্প নেতৃত্বের ঘোষণা

শীর্ষ নেতাদের আটকের আশঙ্কা থেকে আগেই বিকল্প নেতৃত্বের ব্যবস্থা করে রেখেছিল সিজেপি। সংগঠনটির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে অজিঙ্কা শিন্ডে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

শুক্রবার রাতে ধারণ করা ওই ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, কেউ ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন, তাঁদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভিডিওটি প্রকাশ করে সিজেপি।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, দিপকে ও অন্য দুই নেতাকে আটক করা হলেও তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে ধাতব ব্যারিকেড বসানো, পুলিশ সদস্যদের মানবপ্রাচীর তৈরি এবং আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেছে বলে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কেন এই আন্দোলন?

বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সিজেপির আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এবারের কর্মসূচিতে নির্বাচনি সংস্কার এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও যুক্ত হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শীর্ষ নেতাদের আটকের মধ্যেও সিজেপি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন নজর রয়েছে, বিকল্প নেতৃত্বে আন্দোলন কতটা সংগঠিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে সংগঠনটি এবং নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে চলমান কর্মসূচি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে।