ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করায় ব্যাহত হয়েছে গণপরিবহন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প হিসেবে বিমানপথ বেছে নিতে গিয়ে অনেককে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এদিকে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন জমা পড়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে যাতায়াতকারী কয়েকটি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

citytouch 728-X-90

গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল করে দেওয়াকে অতিরিক্ত পদক্ষেপ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম আলেকজান্ডার বেবিসহ কয়েকজন আবেদনকারী।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়া যাবে না। তবে আদালতের নির্দেশের পরও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে।

গণপরিবহনে বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে বিমানযাত্রাতেও। শেষ মুহূর্তে টিকিট কিনতে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ভ্রমণ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বারাণসী থেকে দিল্লিগামী একমুখী বিমান টিকিটের ভাড়া বেড়ে ৬ হাজার ২০০ থেকে ১৪ হাজার রুপিতে পৌঁছেছে। শুক্রবার অমৃতসর থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটের টিকিটের দাম, যা সাধারণত প্রায় ৪ হাজার রুপি থাকে, বেড়ে প্রায় ৮ হাজার রুপি হয়েছে।

লুধিয়ানা থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটের ভাড়াতেও উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। শনিবার দিনের বেলায় একটি টিকিটের দাম বেড়ে ১২ হাজার ৯৮৭ রুপিতে উঠলেও রাত ৮টার মধ্যে তা কমে ৪ হাজার ৩০১ রুপিতে নেমে আসে।

পরিবহন সংকটে শুধু সাধারণ যাত্রীরাই নন, ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমান সংস্থার কর্মী ও বিমানবন্দরে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও। সড়কে যানজট এবং বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারলে ফ্লাইট পরিচালনাতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ভ্রমণ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, রেল ও সড়ক যোগাযোগে দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্ন চলতে থাকলে দিল্লিগামী বিমানের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এতে বিভিন্ন রুটে বিমানভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুম সামনে থাকায় এ পরিস্থিতি যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এর কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কতটা সীমিত করা যায়, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।