পাহাড়তলী থেকে পার্বতীপুর, সিআরবির জমি থেকে কমলাপুর স্টেশন, এ যেন এক সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে জিম্মি বাংলাদেশ রেলওয়ে। যার নেপথ্যে রয়েছেন বর্তমান মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন, ঠিকাদার আনিসুর রহমান টিপু ওরফে ‘পার্কিং টিপু’ এবং রাজশাহী আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আফসার আলী বিশ্বাস।
শেখ রেহানার আফজাল এখন বর্তমান সরকারের রেলমন্ত্রী শেখ রবির রেলের ডিজি। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও বিন্দুমাত্র টাল মাটাল হয়নি রেলের এই লুটেরা সিন্ডিকেট। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে রাজত্ব করছেন ‘ম্যানেজ মাস্টার’ প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন।
একসময় অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়ালেখা করা আফজাল বিগত সরকারের আমলে ছিলেন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পিডি এবং তৎকালীন শেখ রেহানার ক্ষমতাধর ‘কালেক্টর’। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে ডিজির পদ বাগিয়ে নেন তিনি। আর বর্তমানে নতুন সরকার গঠনের পর রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম রবির রেল মন্ত্রনালয়ে আগের মতোই নির্বিঘ্নে কায়েম রেখেছেন ৫% কমিশন আর টেন্ডার বাটোয়ারার রামরাজত্ব।
আফজালের সময়েই পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে সরকারি অডিটে শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার পুকুরচুরি, যার প্রায় ৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকাই ‘গুরুতর ও মীমাংসাহীন’। আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি খরচ দেখিয়ে প্রতি কিলোমিটারে ওড়ানো হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা; আর মাত্র ৫ কোটি টাকার ভাঙ্গা স্টেশন নির্মাণে খরচ দেখানো হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।
রেলের কেনাকাটা ও সম্পদে গড়ে উঠেছে তার অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট। পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় নতুন যন্ত্রাংশের নামে পুরনো মেরামত করা মাল দিয়ে ৮০টি কাজ বাগিয়েছেন ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস। অন্যদিকে, কুখ্যাত ‘পার্কিং টিপু’র সিকদার কনস্ট্রাকশনকে নিয়ম ভেঙে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কমলাপুর ও সিআরবির শতকোটি টাকার রেলভূমি এবং প্রধান স্টেশনগুলোর গণশৌচাগার।
বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও অস্ট্রেলিয়ায় অর্থ পাচার করে আলিশান সাম্রাজ্য গড়েছেন আফজাল। সব অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে তিনি পার পেলেও অনুসন্ধান বলছে, সরকার বদলালেও রেলে দুর্নীতির হুইসেল আজও বাজছে রেহানার সেই আফজালের ইশারাতেই।










