বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে মস্কো।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, আগামী কয়েক মাসে কয়েক ধাপে আরও ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পাশাপাশি নভেম্বরে ৫ লাখ টন এবং ডিসেম্বরে ১০ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, একই দিনে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের সুযোগ বাড়ানো এবং জ্বালানির দামের ওপর চাপ কমানো এ পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত রাশিয়া। এ ধরনের সরবরাহ বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পুতিন।
দুই নেতার ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান, ইরানের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা দুর্বলতার পরিচয়। তাঁর মতে, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের জন্য দেশটি আরও অর্থ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ডিজেলের দাম
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়েছে। দেশটির অটোমোবাইল সংস্থা এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৫ দশমিক ৯৪ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৮ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ডিজেলের গুরুত্ব অনেক। ট্রাক পরিবহন, কৃষি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপকভাবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহের বাস্তবায়ন, নিষেধাজ্ঞার শর্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।










