ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একই হামলায় একটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো হতাহতের খবর প্রকাশ করেন।
জেলেনস্কি জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দারনিতস্কা সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি আবাসিক ভবন। হামলার আগে ইউক্রেনকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীর একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে এসব স্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। বুধবার ভোরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কিয়েভের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় রাজধানীর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে কিয়েভে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া আবারও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তাও পাচ্ছে না তাঁর দেশ।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরব না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকৃত পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ অব্যাহত থাকার জন্য কারা দায়ী, তা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির সমঝোতার কথা জানানোর পরও কিয়েভে হামলার ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার রাতের হামলার আগে সোমবার রাতেও রাজধানীটিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।
এর মধ্যে ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা করছে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত রেখেছে।
ট্রাম্প জানান, যুদ্ধের অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে ওয়াশিংটন। ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের দিন ইউক্রেনও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এদিকে বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেনস্কি। বৈঠকে কিয়েভের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার জেলেনস্কি বলেছিলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইউক্রেন যে স্বস্তি পাবে, দেশটি তার যোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি হলে ইউরোপ ইউক্রেনে আরও অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ পাবে, যা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মস্কো মনে করে।










