২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫০ জনকে কঠোর ও অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এসব পদক্ষেপ পরে নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো পরিস্থিতিতে গড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির মতে, অভিযোগ গঠন কিংবা মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াই শিশুদের আটক রাখার ঘটনা তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। সংগঠনটি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

citytouch 728-X-90

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় আটক থাকার কারণে শিশুরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক শিক্ষা, পারিবারিক জীবন ও শৈশবের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আটকের অভিজ্ঞতা তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

আটক ফিলিস্তিনি শিশুদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, নির্বিচারে আটক শিশুদের মুক্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

একই সঙ্গে শিশুদের ওপর নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো অভিযোগের অবসান ঘটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সংগঠনটির মতে, আটক শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারে ফিরে যাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি শিশুদের আটক ও তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।