চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার মাঠে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শেষ আট মিনিটে তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। নাটকীয় এই জয়ে স্তাদিও অলিম্পিকোতে উপস্থিত দর্শকেরা হতবাক হয়ে যান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রোমা। ২০ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তাঁর শট ঠেকাতে পারেননি রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এর আগে মারিও এরমোসোর শটও কোনোমতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে ডনিয়েল মালেনের জোরালো শটও বিপদ তৈরি করেছিল, যদিও কোর্তোয়া শেষ পর্যন্ত বলটি সামলে নেন।
তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। রোমার ডিফেন্ডার এরমোসোর ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন ফরাসি তারকা। এরপর বিরতির আগে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও আর গোল পায়নি কোনো দল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল এমবাপ্পের ১০০তম ম্যাচ। ২৭ বছর বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন। প্রতিযোগিতায় তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭২-এ, যা তাঁকে রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে দেয়।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রোমা। বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগো মোরা বল বাড়িয়ে দেন মালেনকে। প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় স্পর্শেই কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি। এতে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল।
ছয় মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান মালেন। থ্রু বল ধরে এগিয়ে গিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। শুরুতে অফসাইডের সংকেত দেওয়া হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় রিয়াল। এমবাপ্পে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর একটি শট জালে গেলেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ আট মিনিটে বদলে যায় পুরো চিত্র।
কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে হেডে ফিরে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এর মাত্র দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এন্ড্রিক। ফলে ৩-৩ গোলে সমতায় ফিরে আসে ম্যাচ।
এরপর ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন রোমার সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে ৪-৩ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ম্যাচের আগে রোমার সমর্থকেরা ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে কোচ হোসে মরিনিওকে সম্মান জানান। প্রায় আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি দলটিকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতান এবং ইউরোপা লিগের ফাইনালেও নিয়ে যান। সাত বছরের বেশি সময় পর রোমার ঘরের মাঠে এটি ছিল প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ।
এই জয়ে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ছয়ে। অন্যদিকে, রোমার সংগ্রহ এক পয়েন্ট।










