আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। উইকেটের পেছনে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে ভেঙে দিয়েছেন ২২ বছর ধরে টিকে থাকা বাংলাদেশের পুরোনো রেকর্ড। এবার তার সামনে এক টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়ার হাতছানি।
চলমান টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮টি ডিসমিসালে অবদান রেখেছেন লিটন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটকে। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে ৭টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছিলেন পাইলট। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন লিটন।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিং করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও আরও তিনটি ক্যাচ নেন লিটন। সব মিলিয়ে তার ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। ম্যাচের খেলা চলতে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
এবার লিটনের লক্ষ্য হতে পারে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বরেকর্ড। এক টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে। এই কীর্তি যৌথভাবে গড়েছেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত। রাসেল ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ডি ভিলিয়ার্স ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং পন্ত ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসালে অবদান রাখেন।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তখনো ব্যাট করছিল আফগানিস্তান। ফলে উইকেটের পেছনে আরও ক্যাচ বা স্টাম্পিংয়ের সুযোগ পেলে বিশ্বরেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে যেতে পারেন লিটন।
শুধু উইকেটের পেছনেই নয়, ব্যাট হাতেও এই টেস্টে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের এই তারকা। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। পাশাপাশি পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। সেঞ্চুরির সংখ্যার দিক থেকেও ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলকে।
সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে ব্যাট ও গ্লাভস—দুই ভূমিকাতেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন লিটন দাস। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের হয়ে গড়া নতুন রেকর্ডের পর বিশ্ব ক্রিকেটের রেকর্ডেও নিজের নাম লেখাতে পারেন কি না তিনি।










