আবুধাবি টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিনে জিততে হলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য, জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে তাদের আরও ৩৪৭ রান করতে হবে। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণের আগেই বিরল এক কীর্তির সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। এই কীর্তি গড়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ।

এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। নেতৃত্বের অভিষেকেই ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক।

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচের দুই ইনিংসেই অন্তত পঞ্চাশ রান করার কীর্তি গড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় রহমত শাহ এখন ষষ্ঠ। এর আগে সর্বশেষ এই কীর্তি দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালে। সেবার ভারতের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার মাঠে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ছিল ১১৫ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪১।

citytouch 728-X-90

এই তালিকায় কোহলির আগে আরও কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। ১৮৯৭ সালে ইংল্যান্ডের আর্চি ম্যাকলারেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধিনায়কত্বের অভিষেক টেস্টে করেন ১০৯ ও অপরাজিত ৫০ রান। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের গফ রাবোন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেন ১০৭ ও ৬৮ রান। ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ১২৩ ও অপরাজিত ১০৯ রান।

বাংলাদেশের বিপক্ষেও এমন কীর্তি গড়ার নজির রয়েছে। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রেন্ডন টেলর প্রথম ইনিংসে ৭১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০৫ রান করেছিলেন।

তবে ব্যক্তিগত এই কীর্তির বাইরেও আবুধাবি টেস্টের শেষ দিন আফগানিস্তানের সামনে রয়েছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। জিততে হলে তাদের গড়তে হবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড।

টেস্ট ক্রিকেটে সফলভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল ক্যারিবীয়রা। ফলে আফগানিস্তানকে জিততে হলে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে।

বাংলাদেশের সামনে তাই একদিকে টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা, অন্যদিকে আফগানিস্তানের সামনে অসম্ভবকে সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ। শেষ দিনে দুই দলের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।