আবুধাবি টেস্টে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি, আর উইকেটের পেছনে একের পর এক ক্যাচ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ে ৯টি ডিসমিসাল নিয়ে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ১৪৯ বছরের ইতিহাসে এক ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের নজির নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। এবার এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হাতছানি রয়েছে তাঁর সামনে।
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে রয়েছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। তাঁর অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। এরপর উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে চারটি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিংও করেন এই উইকেটকিপার।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন লিটন। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই ইনিংসের শতক তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির মালিকদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে আনে।
ব্যাটিংয়ের পর উইকেটকিপিংয়েও নিজের দাপট অব্যাহত রাখেন লিটন। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে আগের দিনই তিনটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে দেন বাংলাদেশের সাবেক উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটের ২২ বছর আগের রেকর্ড।
২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে সাতটি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছিলেন পাইলট। লিটন সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি।
পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ইকরাম আলীখিলের ক্যাচ নিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন লিটন। দুর্দান্ত সেই ক্যাচের মাধ্যমে নিজের ডিসমিসালের সংখ্যা বাড়িয়ে নেন নয়টিতে। একই টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটকিপিংয়ে নয়টি ডিসমিসাল—এই সমন্বয় তাঁকে বিরল এক কীর্তির সামনে দাঁড় করিয়েছে।
এবার লিটনের সামনে এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার সুযোগ। বর্তমানে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্ত। তিনজনই এক টেস্টে ১১টি করে ডিসমিসাল করেছেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জ্যাক রাসেল, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঋষভ পন্ত এই কীর্তি গড়েন। লিটন আর তিনটি ডিসমিসাল নিতে পারলে তাঁদের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর চারটি নিতে পারলে এককভাবে বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।
এই টেস্টে ব্যাট হাতেও একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতকের পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির তালিকায় কিংবদন্তি মোহাম্মদ আশরাফুলকেও পেছনে ফেলেছেন।
সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন লিটন দাস। এখন শেষ দিনে তাঁর সামনে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে পারলে এই টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের এই তারকার ক্যারিয়ারে।








