লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় শাওমি ব্র্যান্ডের ‘রেডমি মোবাইল’ বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে দুই বন্ধু আহত হয়েছে; যাদের মধ্যে একজনের একটি চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গেছে, রেডমি স্মার্টফোনে গেইম খেলার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের খেঁজুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মামুনুর রশিদ পলাশ। আহতরা হলেন- ওই গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২৫) এবং একই এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল আহমেদ (২৫)।
বুধবার দুপুরে চিকিৎসক পলাশ বলেন, রুবেলের একটি চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সাকিলকে চাঁদপুরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
স্বজনরা জানান, রুবেল ও সাকিল প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার সময় তারা বিলের পাশে বসে মোবাইলে গেইম খেলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে মোবাইলটি বিস্ফোরণ ঘটে।
সোনাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, মো. রুবেল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান এবং শাকিল মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন। দুজন গতকাল চরবগা এলাকার চৌধুরী বাড়ির সামনে একটি দোকানে পাশাপাশি বসা ছিলেন। সেখানে চার্জে লাগানো অবস্থায় মুঠোফোনে অনলাইনে গেম খেলছিলেন রুবেল। খেলার এক পর্যায়ে হঠাৎ মুঠোফোনটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুঠোফোনটির ডিসপ্লে ও ব্যাটারি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে রুবেলের মুখ ও চোখে এবং শাকিলের মুখ ও কানে লাগে। এতে দুজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, রুবেলের চোখ ও মুখমণ্ডলের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। বিস্ফোরণের ফলে চোখের ভেতরের অংশে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে রুবেলকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শাকিলকে চাঁদপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোনাপুর ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মনির সাকিব বলেন, বিস্ফোরণ হওয়া মোবাইলটি শাওমি ব্র্যান্ডের ‘রেডমি স্মার্টফোন’ছিল বলে জানা গেছে।
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি ফেইসবুকে দেখেছেন তিনি। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ কিছু জানাননি।
উল্লেক্ষ্য, শাওমি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বিস্ফোরণের নজির এটাই প্রথম নয়। গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাইকপাড়ায় শাওমি ব্র্যান্ডের ‘রেডমি নোট ১০’ মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরণ হয়। এছাড়াও ভারতে ‘রেডমি নোট ৫ প্রো’ মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। আদিত্যশ্রী নামের ওই শিশুর বয়স মাত্র আট বছর।










