জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও স্কুলগুলোর নাজুক অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

রোববার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, জনগণের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তবে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও সরকারি স্থাপনায় হামলার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী কর্মীদের দায়ী করেছেন। ম্যাক্রোঁর অভিযোগ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব গোষ্ঠী পুলিশ ও সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে।

ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, যারা লুটপাট করেছে, তাদের ক্ষতির দায় বহন করতে হবে। আর যারা প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ‘বিদ্রোহী উপাদান’ এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া অপরাধীদের সহিংসতারও নিন্দা জানান।

এর আগে, মুখোশধারী কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ ও সিটি হলগুলোতে হামলার অভিযোগ ওঠার পর ম্যাক্রোঁ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় প্রশাসনকে মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি সিটি হলে আগুন লাগার পর ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। এতে ঐতিহাসিক ভবনটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ও লুটপাটের অভিযোগে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।