মাটিতে ছোট্ট একটি উজ্জ্বল হলুদ বিন্দু দেখে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী। আর তাতেই মিলেছে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের খণ্ড। বিরল এই স্বর্ণের টুকরোটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারলে দাম প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টিবুবুরা শহরের কাছে মাউন্ট স্টুয়ার্ট স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কয়েক দিন ধরে এলাকায় স্বর্ণের সন্ধান করছিলেন। তবে মূল্যবান ধাতুর বদলে তাঁর অনুসন্ধানযন্ত্রে বারবার ধরা পড়ছিল পুরোনো পেরেক, ঘোড়ার খুর ও ব্যবহৃত গুলির মতো বিভিন্ন ধাতব বস্তু। এর মধ্যেই একদিন মাটিতে ক্ষীণ হলুদ আভা দেখতে পান তিনি। মাটি সরাতেই বেরিয়ে আসে আলুর মতো আকৃতির একটি স্বর্ণের খণ্ড।

স্বর্ণের খণ্ডটির ওজন প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি। এতে আনুমানিক ৯৪০ গ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ওজনের ভিত্তিতে এর মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য আনুমানিক ১২২ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা গেলে এর দাম ২ লাখ ডলার বা প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

দুর্লভ এই স্বর্ণের খণ্ডটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিবুবুরা স্পাড’। এর আকৃতি ও বিরলতার কারণে সংগ্রাহকদের কাছে এটি আরও বেশি দামে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুসন্ধানকারী জানান, স্বর্ণের খণ্ডটির আকারের তুলনায় প্রথম দিকে অনুসন্ধানযন্ত্রে খুব জোরালো সংকেত পাননি তিনি। প্রায় ১০০ মিলিমিটার বা ১০ সেন্টিমিটার গভীরে যাওয়ার পর যন্ত্রটি জোরে সংকেত দিতে শুরু করে।

মাটি সরানোর প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপেই গর্তের মাঝখানে উজ্জ্বল হলুদ বিন্দুটি দেখতে পান তিনি। পরে আশপাশের মাটি খুঁড়ে কোয়ার্টজ পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা স্বর্ণের খণ্ডটি উদ্ধার করেন।

খননের সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, লালচে মাটি থেকে স্বর্ণের খণ্ডটি তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন ওই অনুসন্ধানকারী। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

স্বর্ণ অনুসন্ধানের সময় যন্ত্রে সংকেত পেলেই মূল্যবান কিছু পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায় কেবল পরিত্যক্ত ধাতব বস্তু। ওই অনুসন্ধানকারীর ক্ষেত্রেও কয়েক দিন ধরে এমনটাই ঘটছিল। শেষ পর্যন্ত মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিরল স্বর্ণের খণ্ডটি তাঁর সেই হতাশা দূর করে দেয়।