ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূল অতিক্রম করে এখন ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এর প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় সমুদ্রের পানি সড়ক উপচে লোকজনের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ এবং ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্যের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুবনেশ্বরে রাজ্য জরুরি অভিযান কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রমের পর ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মালকানগিরি এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদে রাখতে মোট ২ হাজার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী নারীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব মাছ ধরার নৌকাকে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও মেঘলা আকাশ, ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়টি ছত্তিশগড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রাজ্যের বস্তারসহ কয়েকটি জেলায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছত্তিশগড় সরকার সব জেলার প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং ২৪ ঘণ্টা ত্রাণশিবির চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে।