লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার কথা জানায়। তবে নৌযানটিতে মাদক বহন করা হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এ হামলার মধ্য দিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচারের পথে চলাচলকারী সন্দেহভাজন পাচারকারীদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পানিতে চলাচলরত ছোট একটি নৌযান বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র সংঘাত’ চলছে। দেশটিতে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা এবং অতিমাত্রায় মাদক গ্রহণের কারণে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজন বলে যুক্তি দেখিয়েছে তাঁর প্রশাসন। তবে যাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে প্রশাসন খুব সামান্যই প্রমাণ প্রকাশ করেছে।
এসব হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিলের কারণে অতিমাত্রায় মাদক গ্রহণজনিত বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও, এই মাদক সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে ফেন্টানিল তৈরি করা হয়।
হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা জানায়, এসব প্রাণঘাতী অভিযানে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাঠামো অনুসরণ করেছে কি না, তা পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যালোচনায় কমান্ডারের নির্দেশনা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। তবে হামলাগুলোর বৈধতা এ পর্যালোচনার আওতায় থাকবে না।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের হামলা পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলাটি এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।
গত মাসে পেরুতে দেওয়া বক্তব্যে রুবিও কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
একই সঙ্গে রুবিও স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌযানে হামলা চালাবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি হামলা বা অভিযানের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলাদাভাবে নেওয়া হবে।






