রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অভিযান শুরুর একপর্যায়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা চালান, গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকেরা আহত হন। বেলা ১টার দিকে মিরপুরের হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত এবং ফ্যাসিজমের দোসরেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে। যারা ঘটিয়েছে, তাদের আগেই প্রস্তুতি ছিল। ফ্যাসিজমের দোসরেরা এই কাজ করেছে।’ ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিকসহ কিছু পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা পাশের ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লাগার পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের এবং পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, যারা এই অরাজকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আজই মামলা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মামলা হবে। তদন্ত করে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।