ইউরোপের অন্যতম বড় অর্থনীতি জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান। দুবাইয়ে আয়োজিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনে তিনি বলেন, পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৩০ লাখ শূন্য পদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশই জার্মানিতে।
দক্ষ পেশাজীবীদের জার্মানিতে যাওয়ার একটি পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’ (Chancenkarte)। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে সর্বোচ্চ ১২ মাস চাকরি খুঁজতে পারেন। এই সময়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
অপরচুনিটি কার্ডের জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি একাডেমিক বা ভোকেশনাল যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়। অন্যথায় পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষাজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় এতে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালে এ ক্ষেত্রে মাসে ন্যূনতম ১,০৯১ ইউরো অর্থের সক্ষমতা দেখানোর কথা সরকারি তথ্যের রয়েছে।
জার্মানিতে গিয়ে উপযুক্ত চাকরি পেলে অপরচুনিটি কার্ডের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক রেসিডেন্স পারমিট নেওয়া যায়। চাকরিটি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী EU Blue Card-ও হতে পারে।
স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
যোগ্য চাকরি ও প্রয়োজনীয় বেতন থাকলে EU Blue Card জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের একটি পথ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে Blue Cardধারীরা ২৭ মাস পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। জার্মান ভাষায় B1 স্তরের দক্ষতা থাকলে সময় কমে ২১ মাস হতে পারে।
তবে ৬ লাখ ৫০ হাজার শূন্য পদ মানেই সব পদে বিদেশিদের সরাসরি নিয়োগ হবে না। কোন পেশায় নিয়োগ হচ্ছে, আবেদনকারীর যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, স্বীকৃত সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের শর্ত পূরণ—এসবের ওপর সুযোগ নির্ভর করবে।










