তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে আবারও রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় দুটি সংগঠন।

বুধবার দুপুরে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অভিযোগ করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা অংশের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের আগের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করছেন।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে সাধারণ জুমচাষিরা জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে যেতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও জেএসএসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি।

জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।

এদিকে, ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পূজা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আবারও পালন করা হবে। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

তবে সংগঠন দুটির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। পরে তিন দফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশ্বাসে দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় সংগঠন দুটি ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধের ডাক দেয়। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।