রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় দুটি সংগঠন—সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয় পাহাড়িদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে মাচালং, থলকুম্ভ ও নোয়াপাড়া এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক এলাকা থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হুমকি, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এসব পরিস্থিতির অবসান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস-সন্তু লারমা পক্ষ। তাদের দাবি, অন্য একটি আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও নিপীড়নের ঘটনা আড়াল করতে স্থানীয় মানুষকে চাপ দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করাচ্ছে।

অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তা পাহারায় খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পারস্পরিক অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে সাজেকের সড়ক অবরোধ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ ও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পর্যটন সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।