আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপির নেতাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফেরার প্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এ প্রচারকে কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হঠকারী সিদ্ধান্ত ও উসকানিতে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র ও নাশকতা প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সতর্ক থাকবেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাস বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

পোশাকশ্রমিক আন্দোলন নিয়েও আলোচনা

সম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তাঁদের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে সারা দেশে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারির কথা জানাল সরকার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা ও সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। ডিসেম্বর নিয়ে প্রচারকে তিনি পলাতক নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস এবং এ মাসে সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি থাকবে।

পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে ব্যবস্থা: বিএনপি

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় বা আর্থিক সুবিধা দিলে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দলটি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেবে না; তবে আক্রমণ বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে রাজপথে ছাড় দেওয়া হবে না।