সরকার জনগণের রান্নাঘর পর্যন্ত ভোগান্তি পৌঁছে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এলপিজি গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করলে খালি সিলিন্ডার নিয়ে রাজপথে নামা ছাড়া জনগণের আর কোনো উপায় থাকবে না।

রাজধানীর রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের সামনে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ২৯ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জনগণকে খালি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকার যখন জনগণের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তখন প্রতিবাদ হিসেবে খালি সিলিন্ডার নিয়ে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এ জন্য পাড়া-মহল্লার নারীদেরও খালি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। গ্যাসের দাম নির্ধারণে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং গণশুনানির পর ওই কমিটি মূল্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করে কয়েকটি কোম্পানির মালিকের কথায় জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডার এখন সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বেশি। বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা না হলে খালি সিলিন্ডার, হাঁড়ি-পাতিল ও কলস নিয়ে রাজপথে নেমে অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন থাকার বিষয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার পরিচায়ক। সরকার ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। ভবিষ্যতে দলটি আরও বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।