ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিঙ্গা শহরে শক্তিশালী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ।

প্যারানা পরিবেশ প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (সিমেপার) জানিয়েছে, ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এ ছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শহরটিতে ৩৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

প্যারানা এনার্জি কোম্পানি কোপেলের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে ৮২ হাজার ২০০টির বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। এতে মারিঙ্গা শহরের প্রায় ৩৪ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়া গাছ সড়কে পড়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এসব গাছের আঘাতে পার্ক করে রাখা গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি একটি গির্জার দেয়ালের ওপরও গাছ ভেঙে পড়ে।

এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ভবন, বাড়ির ছাদ, ট্রাফিক সিগন্যাল ও একটি গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে শহরের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ও রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মারিঙ্গার মেয়র সিলভিও বারোস জরুরি জনদুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দ্রুত সহায়তা এবং জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে পৌরসভার অবকাঠামো ও নগর রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তারা সড়ক থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরানো, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন।

ঝড়ের পর বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। উপড়ে পড়া গাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মারিঙ্গা ছাড়াও প্যারানা রাজ্যের আরও কয়েকটি পৌরসভায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।