ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএসএফের তিন সদস্যসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। রাজ্যের কালামচৌড়া থানার অধীন আশাবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএসএফের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে নূতনবাজার সড়কসংলগ্ন এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করছিলেন বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় সন্দেহের ভিত্তিতে হেফজুর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করেন তারা। তিনি শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, আটকের পর হেফজুর রহমানকে মারধর করেন বিএসএফ সদস্যরা। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা নূতনবাজারের কাছে আশাবাড়ি-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অবরোধ চলাকালে বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের একটি গাড়ি রহিমপুর থেকে বক্সনগরের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়ে। গাড়িটিতে কোম্পানি কমান্ডার রোহিত, চালক সুনীল কুমার এবং মনজিৎ নামে বিএসএফের আরেক সদস্য ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে গাড়িতে থাকা বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনজনই আহত হন।
খবর পেয়ে আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির বিএসএফ সদস্য ও কালামচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত বিএসএফ সদস্যদের প্রথমে বক্সনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ ও ডা. বিআরএএম টিচিং হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।







