মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাদের পাঠানো সব বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তিনি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস চলে গেলে তিনি তাদের পাঠানো প্রতিটি বিলে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস সব বিলে ভেটো দেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন যে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হবেন বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা বিভিন্ন বিল পাঠাবে। আপনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস সব বিলে ভেটো দেওয়ার পর তারা যখন দেখবে সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন আলোচনায় আসবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
এ ধরনের সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। অতীতেও আইন পাসের জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা নির্বাচনে ভালো করব। তবে যদি জিততে না পারি, তাহলে সবকিছুতেই ভেটো দেব। শুধু ভেটো আর ভেটো।’
দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প মাত্র দুবার প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। আর প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট অসম্মতি জানালে সেটিতে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো উপেক্ষা করে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আবারও নির্বাচনে লড়তে চান। তবে এ বিষয়ে সংবিধানের বিধান স্পষ্ট বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও তিনটি আসন প্রয়োজন।
নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দিনের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম কতটা সহজ হবে।







