রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে পেনসিলভেনিয়ায় প্রায় ৭০০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ১৯৯২ সালের পর চলতি বছরটিকে রাজ্যটির সবচেয়ে ভয়াবহ হামের বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য সচিব ডা. ডেবরা বোগেন এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে পেনসিলভেনিয়া সবচেয়ে গুরুতর হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি মিফলিন কাউন্টির ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তিনি হাম থেকে সৃষ্ট এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এটি হামের একটি বিরল ও গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামের কারণে নিউমোনিয়া ও স্নায়বিক জটিলতার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতি এক হাজার আক্রান্তের মধ্যে প্রায় এক থেকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া আক্রান্তদের একটি অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পেনসিলভেনিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার ও মিফলিন কাউন্টির কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কেন্দ্র। এ ছাড়া উটাহ, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
হাম প্রতিরোধে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা অত্যন্ত কার্যকর। তবে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
এদিকে, হামজনিত মৃত্যুর হিসাব ও রিপোর্টিং পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জাতীয় পরিসংখ্যানে পেনসিলভেনিয়ার সাম্প্রতিক মৃত্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত করছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে পেনসিলভেনিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালে দেশ থেকে হাম নির্মূলের ঘোষণা পেয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেই নির্মূল-অবস্থা ধরে রাখা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এমএমআর টিকার আওতা বাড়ানো এবং হাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।










