দেশে আবারও চীনা হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড ‘ইনফিনিক্স’-এর অফিশিয়াল স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও মারাত্মত ক্ষতি থেকে ৫ সেকেন্ডের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এক ব্যবহারকারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী গ্রাহককে সহায়তা না করে উল্টো আইনি ব্যবস্থার হুমকি ও বিস্ফোরিত ফোনটির বক্স ও কাগজপত্রসহ জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ এলাকায়। ভুক্তভোগী গ্রাহক নাহিদ হাসান জানান, তিনি তার ব্যবহৃত ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের Infinix Hot 60i মডেলের অফিশিয়াল হ্যান্ডসেটটিতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। কথা বলা অবস্থায় হঠাৎ ফোনটি অতিরিক্ত গরম হতে শুরু করে। অস্বাভাবিক উত্তাপ টের পেয়ে বিপদের আশঙ্কায় নাহিদ দ্রুত ফোনটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। ফোনটি মাটিতে ফেলার মাত্র ৫ সেকেন্ডের মাথায় সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং সাথে সাথে আগুন ধরে পুরো ফোনটি পুরে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী নাহিদ বলেন, ‘ফোনটি হাত থেকে ফেলে দিতে আর মাত্র পাঁচ সেকেন্ড দেরি হলে সেটি সরাসরি আমার কান ও মুখের কাছেই বিস্ফোরিত হতো। এতে আমার কান, মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যেতে পারত, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারত। সময়মতো সরাতে পেরেছিলাম বলেই বেঁচে গেছি।'

স্বাভাবিক ব্যাবহারে ফোন বিষ্ফোরিত হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বরং বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটায় ফোনটির ব্যাটারি কিংবা উৎপাদনে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বাজারে এখনো এই মডেলের ফোন বিক্রি হচ্ছে। আবার গ্রাহকের কাছেই ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের Infinix Hot 60i মডেলের মোবাইলের বহু ইউনিট ব্যাবহাররত অবস্থায় আছে। যদি সত্যি সত্যিই উৎপাদনগত কোন ত্রুটি থেকে থাকে তবে গ্রাহকের হাতে থাকা এই মডেলের প্রতিটা মোবাইল ফোনকে এক একটা টাইম বোমা হিসেবেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার আতঙ্ক কাটার আগেই ভুক্তভোগীকে নতুন করে মানসিক চাপে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নাহিদ হাসানের দাবি, মোবাইল বিষ্ফোরনের পর ঘটনাটি সর্বপ্রথম দুরবীন নিউজে প্রকাশিত হলে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরবর্তিতে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বিষ্ফোরনের ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে পুড়ে যাওয়া ফোন, বক্সসহ তাদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তিনি যদি এ বিষয়ে মুখ খোলেন তবে তার বিরুদ্ধে ‘আইনি ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে একজন সাধারন গার্মেন্টসকর্মী নাহিদ আইনি জটিলতায় ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন।

ভুক্তভোগী নাহিদের ভাষ্য মতে, ইনফিনিক্সের ত্রুটিপুর্ন মোবাইল বিষ্ফোরনের এই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তাকে এভাবে হয়রানি ও আইনি জটিলতায় ফেলার হুমকি দিচ্ছে ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাদের পক্ষ হতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এটিই ইনফিনিক্সের ফোন বিস্ফোরণের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত বছরের ১২ জানুয়ারি প্রাইভেট পড়া শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পকেটে রাখা ‘ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস’ মডেলের একটি ফোন বিস্ফোরিত হয়। সে সময় ওই তরুণের কাপড়ে আগুন ধরে যায় এবং তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে থেকে উন্নত চিকিৎসার নেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছিল।

পরপর দুটি ঘটনার পর ইনফিনিক্স ফোনের ব্যাটারির মান ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন গ্রাহকদের দাবি, শুধু নির্দিষ্ট কিছু মডেলেই নাকি ইনফিনিক্সের সকল ফোনগুলোতেই এসব উৎপাদনগত মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে কি না, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিটিআরসি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।